ইন্টারনেট ৮০৮-এর এই সিরিজটিতে তোমরা ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে সেটা জানতে পারবে।

পুরো সিরিজটি ৩টি পার্টে বিভক্তঃ

পার্ট ১(এটা)-  ইন্টারনেট ৮০৮: ইন্টারনেট কি?

ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে সেটা জানার আগে আমাদের জানতে হবে ইন্টারনেট কি। তো ইন্টারনেট কি? তোমার বাসার ইন্টারনেট সংযোগটা ইন্টারনেট? তাহলে কি এমবি(মেগাবিট) ইন্টারনেট?  ইন্টারনেটটা আসলে কি???

ইন্টারনেটের ডেফিনিশ্যান হচ্ছে,

বাংলা উইকিপিডিয়া থেকে

অর্থাৎ ইন্টারনেট হচ্ছে ছোট-বড় সব নেটওয়ার্কের নেটওয়ার্ক।

যখন তুমি ২টা কম্পিউটারকে কানেক্ট করতে চাইবে তবে কি করবে? অবশ্যই তার(ইথারনেট ক্যাবল) দিয়ে বা ওয়ারলেস কানেকশন(ব্লুটুথ, ওয়াইফাই) দিয়ে ২টাকে কানেক্ট করবে, তাই না?

বুঝার সুবিধার্থে আমরা শুধু ইথারনেট ক্যাবল দিয়ে উদাহরণ দেখবো।

২টা কম্পিউটারের নেটওয়ার্ক

এভাবে ইথারনেট ক্যাবল দিয়ে শুধু ২টি নয় অনেক গুলো কম্পিউটারই কানেক্ট করতে পারবে। কিন্তু এই নেটওয়ার্কে সাইজ যত বড় হয়, নেটওয়ার্কিংটাও কম্পিকেটেড হয়ে যায়। নিচের চিত্রটিতে লক্ষ্য করো।

মাল্টিপাল কম্পিউটারের নেটওয়ার্ক

এখানে, যদি একটি কম্পিউটার, অন্য যেকোনো কম্পিউটাকে কোনো ডকুমেন্ট দিতে চায় তবে সেটা সরাসরি দিতে পারবে। কিন্তু, এভাবে ৬টি কম্পিউটারের জন্যে ইথারনেট তার লাগবে ১৫টি।

যত কম্পিউটারের সংখ্যা যতো বাড়বে তারের সংখ্যাও কয়েক গুণে বাড়তে থাকবে। প্রতিটা কম্পিউটারে এতো পোর্ট দেওয়া সহজ ব্যাপার নয়।

এসমস্যা সমাধানের জন্যে ব্যবহার করা হয় রাউটার৷ এক্ষেত্রে সবগুলো কম্পিউটার রাউটারের সাথে কানেক্টেড থাকে। রাউটারের কাজই হচ্ছে রাউট করা। অর্থাৎ, একটা কম্পিউটার কোনো ডকুমেন্ট দিলে সেটা কাঙ্খিত গ্রাহকের কাছে পৌছানো।

এক্ষেত্রে, যদি একটি কম্পিউটার কোনো ডকুমেন্ট অন্য কম্পিউটারকে দিতে চায়, তবে সেটা আগে রাউটারে পাঠাতে হবে। তারপর, রাউটার সেটা কাঙ্খিত গ্রাহকের কাছে পৌছাবে। রাউটারের সুবিধা হচ্ছে ইথারনেট ক্যাবল এবং পোর্ট অনেক গুলো  প্রয়োজন হয় না, আবার অসংখ্যা ডিভাইস কোনো ঝামেলা ছাড়াই কানেক্ট করা যায়।

কম্পিউটার রাউটারের সাথে , আবার সেই রাউটার আরেক রাউটারের সাথে কানেক্ট করে নেক বড় নেটওয়ার্ক তৈরি করা সম্ভব।

তবে এখানেও একসময় সমস্যা দেখা দেয়। এভাবে নেটওয়ার্কিং এর জন্যে সবার বাসায় ইথারনেট ক্যাবল লাগাতে হবে। কিন্তু, যেহেতু আগের থেকেই সবার বাসায় টেলিফোন ক্যাবল সংযুক্ত করা আছে, নতুন করে লাগানোর ঝামেলার প্রয়োজন কি যেখানে টেলিফোন ক্যাবল অলরেডি একজনের বাসার সাথে পুরো বিশ্বকে যুক্ত করে দিয়েছে।

বি.দ্রঃ এরপরের অংশটি বাংলাদেশে ঘটেনি, কারণ বাংলাদেশে টেলিফোন কোম্পানি থেকে জনগণের বাসায় টেলিফোন কানেকশন কখনোই ছিলোনা। যদিও আমি অতোটা সিউর না, বাংলাদেশে সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেটের যাত্রা শুরু হয় সিম কানেকশন দিয়ে। তবে, উন্নত দেশগুলোতে ৯০-এর দশকে এবং অনেক জায়গায় এখনও এভাবে নেটওয়ার্কিং করা হয়।

এবার আসে মডেমের ধারণাটা৷ তুমি হয়তোবা আশে পাশে কারো কাছে বাসায় ব্যবহারের জন্যে মডেম দেখে থাকবে। যদিও ৯০-এর দশকের মডেম এমন ছিলো না, তবে তুমি ধারণাটা পেয়ে গেছো। টেলিফোনের কাঠামোর সাথে আমাদের নেটওয়ার্ক কানেক্ট করার জন্যেই মডেম প্রয়োজন। টেলিফোনের কাঠামোর সাথে আমাদের নেটওয়ার্কটিকে খাপ খাওয়ানোর জন্যে, অর্থাৎ, আমাদের নেটওয়ার্কের মধ্যে আদান-প্রদানকৃত তথ্য যাতে টেফিফোন হ্যান্ডেল/ম্যানেজ করতে পারে, তার জন্যে ব্যবহার করা হয় মডেম।

এ পর্যন্ত আমরা সম্পূর্ণ একটি নেটওয়ার্ক সস্মর্কে জেনেছি। কিন্তু, ইন্টারনেট তো শুধু একটি নেটওয়ার্কের মধ্যে সীমাবব্ধ নয়।

পুরো এক দেশের নেটওয়ার্কের সাথে অন্য দেশের নেটওয়ার্ক যুক্ত করার জন্যে কাজ করে ISP(Internet Service Provider)। ISP এমন কিছু কোম্পানি যা কিছু স্পেশাল এবং একটু শক্তিশালী রাউটারকে ম্যানেজ করে। এসব রাউটারগুলো একটি আরেকটির স্থে যুক্ত থাকে। আবার, সব ISP-এর স্পেশাল রাউটারগুলো পরষ্পর যুক্ত থাকে। এইসব ছোট-ছোট রাউটারগুলোই ইন্টারনেটের ভিত্তি।

এইসব নেটওয়ার্ক মিলে যে নেটওয়ার্ক গঠিত হয় তাই ইন্টারনেট।

Got Something to Say?

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.