Healthy Olive Cooking Olive Oil Salad Dressing

শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে মুখ। তাই মুখের যত্ম নেওয়াও, ভালো স্বাস্থ্যের জন্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, মুখের স্বাস্থ্য, পুরো শরীরের স্বাস্থ্যের উপরে অনেক প্রভাব ফেলে।

পাকস্থলী, লিভার হৃদপিণ্ড সবকিছু ঠিক থাকলেও, যদি মুখই ব্যাকটেরিয়া মুক্ত না থাকে, খাবার এখান থেকেই ইনফ্যাক্টেড হয়ে ভিতরে প্রবেশ করে বাকি অঙ্গগুলোকে ইনফ্যাক্ট করবে। মুখের ক্যাভিটি, শরীরে দীর্ঘকালস্থায়ী রোগ যেমন হার্ট রিলেটেড রোগ, ক্যান্সার, ডিমেনশিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

মুখের মধ্যে ব্যাক্টেরিয়া নিধনের জন্যেই

অয়েল পুলিং  মুখের ব্যাক্টেরিয়া দমনের জন্যে একটি সহজ ও কমদামী পদ্ধতি যা পুরো শরীরের স্বাস্থ্যেরও উন্নতি ঘটায়।অয়েল পুলিং মূলত এসেছে আয়ুর্ভেদ থেকে। হাজার হাজার বছর আগে দাঁত ভালো রাখার জন্যে আর মুখের ব্যাক্টেরিয়া নিধনের উদ্দেশ্যে অয়েল পুলিং করা হতো।

অয়েল পুলিং করাটা অনেক সহজ। সত্য বলতে, ব্রাশ করা থেকেও অয়েল পুলিং করা সহজ।

সাধারণ ভাষায় বললে, তেল মুখে রেখে ১০-১৫ মিনিট দাঁতের ফাকে, এদিকে ওদিকে নাড়ানোটাই অয়েল পুলিং। এই সিম্পল একটা জিনিসের ফ্যান্সি নামই অয়েল পুলিং।

কেনো তেল দিয়েই করা হয়? কারণ, তেলের(সব তেল নয়) মধ্যে চুম্বকীয় গুণ আছে বলে ধরে নেওয়া হয়৷ এই চুম্বকটি লোহাকে নয়, তবে খারাপ ব্যাক্টেরিয়াকে আকর্ষিত করে। এই আকর্ষিত করার ধারণা থেকেই একে ইংরেজিতে বলা হয় অয়েল পুলিং। অয়েল পুলিং করে শরীর থেকে ব্যাক্টেরিয়া,

যেসব তেল ব্যবহার করে অয়েল পুলিং করতে হয়

অয়েল পুলিং-এ কোন তেল ব্যবহার করা উচিত?

  1. তিলের তেল(সিসামে অয়েল):   হাজার বছর আগে যখন অয়েল পুলিং করা হতো, তখন ইন্ডীয়ানরা তিলের তেল ব্যবহার করতেন।
  2. নারকেল তেল: বর্তমানের গবেষণা থেকে দেখা যায়, তিলের তেল থেকে নারকেল তেল বেশি কার্যকরী।
  3.  সূর্যমুখী তেল: উপরের দু’টো ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো। কিন্তু কারণবশত হাতের কাছে একটাও না থাকলে বিকল্প হিসেবে সূর্যমুখী তেল ব্যবিহার করা যেতে পারে।
  4. অলিভ অয়েল(জলপাই-এর তেল): নরমাল ভেজিটেবল তেল থেকে অলিভ অয়েল অনেক গুণে ভালো। বিশেষ করে এর ভিতরের বাড়তি পুষ্টিগুণগুলো।

কিভাবে করতে হবে অয়েল পুলিং

  1. সকালে ঘুম থেকে উঠে খালিপেটে(পানি পানও করার আগে) ১-২ চামচ নির্দিষ্ট তেল মুখে নিয়ে আস্তে আস্তে নাড়াবে।
  2. জোরে নাড়ানোর প্রয়োজন নেই, এতে ৫-৬ মিনিট পরেই চাপায় ব্যাথা শুরু হয়ে যাবে। প্রথম কয়েকদিন আস্তে আস্তে নাড়ালেও একটু ব্যাথা হবে। অভ্যস্ত হয়ে গেলে আর ব্যাথা হবে না।
  3.  ১০-১৫ মিনিট পরে তেলটাকে টয়লেটে ফেলে দিও। বেসিনে না ফেলাই উত্তম। বেসিনে তেল জমে শক্ত হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে নারকেল তেলে এ সমস্যা বেশি হবে। বড় ঝামেলা আটকাতে আগে থেকেই সাবধান হওয়া চাই।
  4.  তেল ফেলে দেওয়ার সাথে সাথেই পানি দিয়ে কুলি করে নিও। পানিতে একটু লবণ মেশাতে পারো এতে মুখের তৈলাক্ত অবস্থা তাড়াতাড়ি চলে যাবে। যতোসব টুথপেস্টের এডে আগেই দেখেছো, দাঁত পরিষ্কারের জন্যে লবণ ভালোভাবে কাজ করে।
  5.  কুলি করার পরেই প্রতিদিনের মতো দাঁত ব্রাশ করে নিও।
  6.  আহ! শেষ।

অয়েল পুলিং করলে কি উপকার হবে

অয়েল পুলিং-এর উপকারিতা

অয়েল পুলিং একটি প্রাকৃতিক পদ্ধতি, সাজেস্টেড তেল ব্যবহার করলে এটিতে কোনো ক্ষতি নেই। তবে অনেকেই একটা নির্দিষ্ট উপাদানের প্রতি এলার্জিক হতে পারে। এটা স্বাভাবিক(যেমন আমি মাছের প্রতি)। এক্ষেত্রে যে তেলের প্রতি এলার্জিক নয় সেটা ব্যবহার করলেই হবে।

অনেকেই দাঁত সাদা করার উদ্দেশ্যে অয়েল পুলিং করে থাকে। যদিও আমার লক্ষ্য এটা নয় বা যারা হাই লাইফস্টাইল ফলো করে তাদেরও উদ্দেশ্যও এটা নয়। তবে, অনেকেই লম্বা সময় ধরে অয়েল পুলিং করে সাদা দাঁত করতে পেরেছে।

অনেকের শ্বাসের সাথে গন্ধ বের হয়। সায়েন্টিফিক গবেষণায় জানা যায়, অয়েল পুলিং করার ফলে অনেকেই এটা এড়াতে পেরেছেন। বেস্ট হবে যদি অয়েল পুলিং এর সাথে সাথে দাঁত ভালো রাখার অন্যান্য প্র‍্যাক্টিস গুলাও চর্চা করা হয়ে থাকে।

বলা হয়, স্ট্রেপটোকোক্কাস মিউট্যান ব্যাক্টেরিয়া যা মুখের মধ্যে থেকে দাতের ক্ষয় সৃষ্টি করতে থাকে। নারকেল তেল দিয়ে অয়েল পুলিং এর মাধ্যমে এই ব্যাক্টেরিয়া নিধন করা সম্ভব। অর্থাৎ, পরোক্ষভাবে অয়েল পুলিং দাতের ক্ষয়ও রোধ করে।

মাড়ি সম্পর্কিত রোগ প্রতিকারে অয়েল পুলিং অনেক কার্যকরী একটা সমাধান। যেখানে সাইড ইফেক্ট নেই বললেই চলে(যদি ব্যাক্তির তেলের প্রতি এলার্জি না থাকে)।

অনেকেই বলেন লম্বা সময় ধরে অয়েল পুলিং এর পর থেকে তাদের ব্রণ অনেক কম হয়। পারসোনালি আমার আগের থেকেই দু’একটা হয়-তাও যা ওকেশনালি এক দুইবার দেখা যায়। বিজ্ঞানও এখানে চুপ। তাই এটাকে মানুষের প্রশংসা হিসেবেই ধরে নেই।

অয়েল পুলিং-এর সময় যা খেয়াল রাখতে হবে

১. অয়েল পুলিং করতে হবে খালিপেটে। সবচেয়ে বেস্ট হবে যদি সকালে ঘুম থেকে উঠে করো। যদি সকালে ৫-১০ মিনিট  সময়ও নেই বলে মনে হয়, তবে গরম-পানি বানানোর সময়েও করে ফেলতে পারো।

২. প্রথম কয়েকদিন আরামদায়ক নাও লাগতে পারে। তাই ৫-৭ মিনিট করতে পারাটাই অনেক। সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট করলেই হবে৷ এর থেকে বেশি অপ্রয়োজনীয়। অনেকেই বলেন ২০ মিনিট করার জন্যে। কিন্তু ব্যাস্ত জীবনে ১০ মিনিট পেলেই অনেক মনে হয়।

৩. ভুলেও অয়েল পুলিং এর পরে তেল গিলে ফেলো  না। এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্টেপ। সাধারণত অয়েল পুলিং এর শেষের দিকে এর সাথে অনেক ব্যাক্টেরিয়া থাকে। যদি গিলেই ফেলো, ব্যাক্টেরিয়া এনে লাভ কি হলো?

৪. ওয়েল পুলিং এর পরে কুলি করে নিও ভালো করে। অনেকেই কুলির সময় গরম পানি ব্যবহার করতে পছন্দ করে৷ কেউবা পানির সাথে একটু লবণ মিশিয়ে নেয় যা মুখের তৈলাক্ত অবস্থা ভালো করে দূর করে। কুলির পরে নরমাল সময়ের মতো ব্রাশ করে নিও। অয়েল পুলিং কখনোই দাত ব্রাশের পরিবর্তে কররে না, বরং দাঁত ব্রাশের সাথে করবে।

৫. ভালো ফলাফলের জন্যে প্রতিদিন অয়েল পুলিং করা প্রয়োজন। ঘুম থেকে উঠেই কিছু খাওয়ার আগে অয়েল পুলিং করাটা তেমন কষ্টের কিছুই না-বিশেষ করে যেহেতু এর উপকার অনেক, না করাটাই বরং কষ্টকর।

৬. ওয়েল পুলিং এর জন্যে কখনোই রিফাইন্ড তেল ব্যবহার করোনা। রিফাইন্ড বলতে- যে তেল কোম্পানি থেকে প্রস্তুত করা হয়। কারণ, সাধারণত কোম্পানি প্রস্তুত করার সময় এতে অনেক কিছু মেশায়  যাতে এর মূল গুণাগুণগুলো প্রভাবিত হবে।

বিশেষ করে, পিউর নারকেল তেল ব্যবহার করাটা বেস্ট যেহেতু নারকেল তেল সবচেয়ে ভালো করে স্ট্রেপটোকোক্কাস মিউট্যান ধ্বংস করতে পারে।

Got Something to Say?

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.