Things To Do To Boost Digestion

১. খাবার খাওয়ার সময় ভালো করে চিবিয়ে খাও। এটা আর বলার প্রয়োজন নেই যে ভালো করে চিবিয়ে খাওয়া মানেই, অটোমেটিকেলি তোমার খাবার ধীরে ধীরে খাওয়া। অর্থাৎ ৫-১০ মিনিটের বদলে ১৫-২০ মিনিট লাগবে খাবার খেতে।

আস্তে আস্তে খাবার খেলে অনেক উপকার হয়ে থাকে। প্রথমত, টিভি আর মোবাইল থেকে দূরে সরে তুমি একচুয়ালি খাবারটাকে উপভোগ করো। এ সময়টা পরিবারের সাথে কাটাতে পারো(আফসোস যারা হোস্টেলে থাকে তাদের জন্যে)। খাবার থেকে সর্বোচ্চ পুষ্টি উপাদান শোষণ করতে পারো।

সবচেয়ে বড় কথা, তোমার ব্রেইন তোমার পেট পরিমির খাবার পেয়েছে কিনা এটা বুঝার জন্যে পর্যাপ্ত সময় পায়। যাতে সবসময় অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বেচে থাকতে পারো, মোটা হওয়া থেকে বেচে থাকতে পারো।

অল্প অল্প নলা নিয়ে, প্রতি নলাকে একেবারে নরম হওয়া পর্যন্ত চিবিয়ে খেতে পারলেই, তোমার শরীর খাবার থেকে সর্বোচ্চ ভিটামিন, মিনারেল এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শোষণ করতে পারবে।

Glass of Water

২. খাবারের সময় বেশি পানি পান  করা উচিত নয়। খাবার খাওয়ার সময় বেশি পানি পান করলে এটা এনজাইম ও পেটের এসিডকে খাবার হজমে সমস্যা সৃষ্টি করবে। খাবার মাঝে মাঝে একটু একটু পান করাটা উত্তম যাতে করে নলাটা সহজে চিবিয়ে টুকরো টুকরো করা যায়।

খাবারের ২০-৩০ মিনিট আগে এক গ্লাস পানি পান করে নিলে খাবারের সময় বেশি পানি পান করার প্রয়োজন হয়না। আবার খাবার শেষ করেই সাথে সাথে পানি পান করলেও তা হজমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, পেটের এসিডকে উপশম করে।

৩.খাবারের পরে দই খেতে পারো। দইয়ের মধ্যে উপস্থিত ব্যাক্টেরিয়া এবং কিছু এনজাইম আমাদের হজমে সহায়তা করে থাকে। দই শুধু হজমেই সহায়তা করে না, আমাদের শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়।

বিশেষ করে দইয়ের জন্যে শ্বাসকষ্ট ও এলার্জি প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ে।

৪. খাবার খাওয়ার পরে সাথে সাথেই কফি পান করা থেকে বিরত থেকো। কফিতে থাকা ক্যাফেইন শরীরের জন্যে ভালো করে থাকলেও আবার খারাপভাবেও প্রভাবিত করে।

ক্যাফেইন আমাদের হজম ক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে। কিন্তু, যদি পরিমিতভাবে পান করা না হয়, তবে হজম ক্রিয়াকে এতোটাই ত্বরান্বিত করে ফেলবে যে শরীর খাবার থেকে পুষ্টিউপাদান শোষণ করার পর্যাপ্ত সময় পাবে না।

আবার কফি একটু বেশি এসিডিক। যদি খাবার খাওয়ার পরে পান করা হয়, তবে অনেকের বুকজ্বালার কারণও হতে পারে। তাই, খাবারের আগে-পরে কয়েক ঘন্টা ব্যবধান রেখে কফি পান করা উচিত।

Fast_food

৫. খাবারের পরে ফাস্ট ফুড বা এমন খাবার যাতে কৃত্রিমভাবে সুগার মিশানো রয়েছে ত খেয়ো না। খাবারের পরেই হজমতন্ত্রের মূল কাজ হচ্ছে পুষ্টি উপাদান শোষণ করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে দেওয়া। খাবারের সমিয় ব্লাড সুগার অনেকটা বেড়ে যায়। এসময়, ব্লাড সুগার লেভেলকেও ব্যালেন্স রাখতে হজমতন্ত্র সাহায্য করে।

অতিরিক্ত কৃত্রিম সুগার ব্লাড সুগার লেভেলকে বৃদ্ধি করতে পারে। তাই কৃত্রিম সুগার থাকে এমন খাবার থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।

Exercising-Male
Photo by Victor Freitas from Pexels

৬. খাবারের পরে শরীরের একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে যতোটা সম্ভব বেশি রক্ত পরিপাকতন্তের কাছে চালনা করা যাতে পরিপাক ক্রিয়া সফলভাবে ঘটতে পারে৷ তাই, খাবারের পরেই ব্যায়াম করা উচিত নয়। ব্যায়ামের কারণে এই কাজটিতে বাধা আসতে পারে যা পরিপাক ক্রিয়াকে অনেকটা প্রভাবিত করবে।

Man With Child Walking by Beach

৭.খাবারের পরে যদিও ব্যায়াম করাটা হজমের জন্যে ক্ষতিকর হতে পারে। কিন্তু, খাবারের পরে একটু হাটাহাটি করলে পুরো উল্টোটা ঘটে

খাবারের ১০-১৫ মিনিট পরে ১৫ মিনিটের জন্যে হাটলে, ব্লাড সুগার লেভেল ব্যালেন্সের কাজটা একটু তাড়াতাড়ি হয়।

টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে, খাবারের পরে ১০-১৫ মিনিট হাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। একটি গবেষণায়  দেখা যায়, টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে, সকালে ৩০ মিনিট হাটা থেকে খাবারের পরে ১০ মিনিট হাটা, ব্লাড সুগার লেভেলকে ব্যালেন্স করতে বেশি সাহায্য করে।

Vegetables

৮.সব বেলার খাবারেই শাকসবজি চাই। দু’একটা সবুজ শাকসবজি হলে আরো ভালো। আমার মনে হয়না শাক-সবজি কতটুক গুরুত্বপূর্ণ তা কাউকে বোঝাতে হবে৷

এককথায়,

যতো বেশি শাকসবজি, ততো কম  শর্করা।আর যতো কম শর্করা, ততো কম সুগার।

৯. খাবারের পরেই গোসল করা উচিত নয়। গোসলের সময় স্বাভাবিকভাবেই শরীরের ভিতরে তাপমাত্রা বেড়ে যায় যাকে ব্যালেন্স করতে রক্ত ত্বকের কাছাকাছি চলে আসে।

মনে আছে যে খাবারের পরে পরিপাকতন্ত্রের কাছে রক্ত থাকা প্রয়োজন? খাবারের পরে গোসল করলে পরিপাক ক্রিয়া নরমাল অবস্থা থেকেও ধীরে ধীরে ঘটবে।

১০. খাবারের পরপরই ঘুমানো উচিত নয়। বাসার বড়দের এই পরামর্শটা মনে আছে তো? আগেই জেনেছ, খাবার খাওয়ার একটু পরেই ব্লাড সুগার অনেকটা বেড়ে যায়।

এই ব্লাড সুগারকে ব্যালেন্স করতে, শরীরের কয়েকঘন্টা সময় লাগে। ঘুমালে মেটাবলিজম লেভেল অনেকটা কমে যায় এবং ইনসুলিনের উপর নির্ভরতা বেড়ে যায়। যা ব্লাড সুগার ব্যালেন্সের মধ্যে বাধা প্রদান করবে। এভাবে চলতে থাকলে৷ একসময় ডায়াবেটিস, হাই ব্লাড প্রেসারের মতো রোগ হতে পারে।

Got Something to Say?

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.